হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও আরেফ মরহুম হযরত আল্লামা হাসানজাদা আমুলি (রহ.) পবিত্র কুরআনের আলোকে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১১টি হলো—
১. তাঁরা বিনয়ের সঙ্গে পৃথিবীতে চলাফেরা করেন। তাঁদের চলাফেরায় অহংকার ও আত্মম্ভরিতা থাকে না; বরং তাঁরা বিনয় ও নম্রতার সঙ্গে জীবনযাপন করেন।
২. অজ্ঞ ব্যক্তির কটু কথার জবাবে শান্ত ও ভদ্র ভাষায় কথা বলেন। কেউ তাঁদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলেও তাঁরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিশোধমূলক আচরণ করেন না; বরং শান্তি ও সৌজন্যের সঙ্গে জবাব দেন।
৩. তাঁরা রাত জাগেন আল্লাহর ইবাদতে।আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির আশায় তাঁরা রাতের সময় সিজদা ও কিয়ামে অতিবাহিত করেন।
৪. তাঁরা জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে কাতর প্রার্থনা করেন।তাঁরা বলেন, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি দূরে রাখুন। নিশ্চয়ই এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ; নিশ্চয়ই তা নিকৃষ্ট আবাস ও পরিণতি।”
৫. তাঁরা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় করেন না এবং কৃপণতাও করেন না। তাঁরা দান ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। অপব্যয় ও কার্পণ্য—উভয় চরমপন্থা থেকেই তাঁরা বিরত থাকেন।
৬. তাঁরা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেন না। তাঁরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করেন এবং একমাত্র তাঁর কাছেই প্রার্থনা করেন।
৭. তাঁরা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করেন না। আল্লাহ যে প্রাণহত্যাকে হারাম করেছেন, তাঁরা তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকেন এবং কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড ও অপরাধে লিপ্ত হন না।
৮. তাঁরা ব্যভিচার থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকেন। তাঁরা অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের ধারে-কাছেও যান না। কারণ যে ব্যক্তি এ ধরনের পাপে লিপ্ত হয়, তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তবে যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন এবং তার মন্দ কাজগুলোকে নেক আমলে পরিবর্তিত করে দেন।
৯. তাঁরা মিথ্যা সাক্ষ্য দেন না। তাঁরা সত্য ও ন্যায়ের ব্যাপারে অবিচল থাকেন এবং কোনো অবস্থাতেই অন্যায় বা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেন না।
১০. অনর্থক ও অশোভন কর্মকাণ্ডের সম্মুখীন হলে তাঁরা মর্যাদার সঙ্গে তা এড়িয়ে চলেন। অশ্লীলতা, অসারতা কিংবা অনর্থক কথাবার্তার কোনো পরিবেশের মধ্য দিয়ে গেলে তাঁরা তাতে জড়িয়ে পড়েন না; বরং নিজেদের মর্যাদা বজায় রেখে তা এড়িয়ে যান।
১১. আল্লাহর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে তাঁরা উদাসীনভাবে তা অতিক্রম করেন না। তাঁরা অন্ধ ও বধিরের মতো আল্লাহর নিদর্শন ও আয়াতের পাশ দিয়ে চলে যান না। বরং সচেতন হৃদয় ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন দৃষ্টিতে সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন। এর ফলে তাঁদের জ্ঞান, উপলব্ধি ও ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়।
আর তাঁরা যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তখন বলেন—
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের দান করুন, যারা আমাদের চোখের শীতলতা হবে। আর আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ ও নেতা বানিয়ে দিন।”
এমন বান্দাদের ধৈর্য ও নেক আমলের পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ নির্ধারণ করবেন। সেখানে তারা শান্তি ও সালামের সঙ্গে পরস্পরকে অভ্যর্থনা জানাবে এবং চিরকাল আনন্দ ও শান্তিতে বসবাস করবে।
এরপর আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দেন—
“বলুন, তোমাদের দোয়া ও প্রার্থনা না থাকলে আমার প্রতিপালক তোমাদের কোনো পরোয়া করতেন না। কিন্তু তোমরা সত্যকে অস্বীকার করেছ; অতএব, সেই অস্বীকারের পরিণতি তোমাদের ভোগ করতেই হবে।”
উৎস: সিরাতে সুলুক — হযরত আল্লামা হাসানজাদা আমুলি (রহ.)।
আপনার কমেন্ট